Home News কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলা: MT Kairos জাহাজের বাংলাদেশি নাবিকদের অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা
News

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলা: MT Kairos জাহাজের বাংলাদেশি নাবিকদের অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা

কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ড্রোন হামলার শিকার জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার MT Kairos এ থাকা চারজন বাংলাদেশি নাবিক ভয়াবহ মৃত্যুঝুঁকি থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর, তুরস্কের উপকূল অতিক্রম করে কৃষ্ণসাগরে প্রবেশের পরপরই।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নরসিংদীর বাসিন্দা, জাহাজটির চতুর্থ প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুল ইসলাম জানান—

“হঠাৎ পরপর বিস্ফোরণ, চারদিকে আগুন, লাইফবোট পর্যন্ত পুড়ে যায়। সাগরে ঝাঁপ দেওয়ারও উপায় ছিল না। প্রচণ্ড ঠান্ডা আর পানিতে আগুন—বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।”

ড্রোন হামলায় জাহাজটির প্রপেলার ও ফুয়েল সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্যাংকারে তখন প্রায় ১,১৬৩ টন জ্বালানি তেল থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশি নাবিকেরা ছিলেন:

  • মোঃ মাহফুজুল ইসলাম (নরসিংদী)
  • আল আমিন (কুষ্টিয়া)
  • হাবিবুর রহমান (ধামরাই, ঢাকা)
  • আজগর হোসাইন (সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম)

লাইফবোট আগুনে পুড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তুরস্কের কোস্টগার্ডের সহায়তায় নাবিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁরা নিরাপদে হোটেলে অবস্থান করছেন।

পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম

ঘটনার পর পরিত্যক্ত জাহাজটি টার্কিশ জলসীমা থেকে ভেসে বুলগেরিয়ান জলসীমায় প্রবেশ করে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (BMMOA)–এর তৎপরতায় তুরস্ক ও বুলগেরিয়ার ITF এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২০২৫ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে:

  • প্রথমে ৩ জন (একজন অসুস্থ নাবিকসহ)
  • পরবর্তীতে অবশিষ্ট ৭ জন নাবিক সফলভাবে উদ্ধার করা হয়।

BMMOA সভাপতি ক্যাপ্টেন মোঃ আনাম চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন, সকল নাবিক বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্পন্ন হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই তাঁরা দেশে ফিরে আসবেন।

প্রেক্ষাপট

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা। এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে হামলায় বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নাবিক শহীদ হন।

BDMariners পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি যে, MT Kairos এর সকল বাংলাদেশি নাবিক প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানাচ্ছি।

More details: Blasts hit sanctioned tankers off Turkey’s coast, rescues underway | Reuters

COMPILED BY
A.K.M Jamal Uddin

28th Batch, Marine Academy Bangladesh.

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

Recent Posts

[Not a valid template]

Related Articles

BMMOA Leads a Major Breakthrough in Expanding Employment Opportunities for Bangladeshi Seafarers

The Bangladesh Merchant Marine Officers’ Association (BMMOA) has taken a bold and...

মেরিনারদের জয় হিমালয়ে: এভারেস্ট বেইস ক্যাম্পে বাংলাদেশের আট সাহসী মেরিনার

সমুদ্র থেকে পাহাড়—যেখানে সাহস, ঐক্য আর অধ্যবসায় মিলে যায় এক বিন্দুতে! আমাদের...

‘Technological Brilliance of Marine Engineering’ – Book by Sajid Hussain (15E)

Technological Brilliance of Marine Engineering – A global voyage into the future...

BMMOA Ensures Safe Return of 7 Bangladeshi Seafarers from Alang, India

We wish to inform you of a recent incident concerning the wellbeing...