Home News থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে কার্গো জাহাজডুবি: ১৬ বাংলাদেশি নাবিক জীবিত উদ্ধার
News

থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে কার্গো জাহাজডুবি: ১৬ বাংলাদেশি নাবিক জীবিত উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনারবাহী কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। তবে জাহাজে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এমভি সিলয়েড আর্ক SEALLOYD ARC (IMO: 8682036) । জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দর থেকে ২২৯টি কন্টেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী শনিবার বিকেলে (স্থানীয় সময় প্রায় সাড়ে ৩টা) থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূল থেকে আনুমানিক চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি হঠাৎ তীব্রভাবে কাত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শেখ মুনির আহমেদ পরিস্থিতির অবনতি বুঝে “অ্যাব্যান্ডন শিপ” (Abandon ship) ঘোষণা করেন এবং জরুরি সংকেত পাঠান। সংকেত পাওয়ার পর থাই মেরিটাইম রেসকিউ সাব-সেন্টার ও থাই নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যেই জাহাজে থাকা সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের জয়েন্ট মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (JMRCC) এক বিবৃতিতে জানায়, থাই কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধার হওয়া ১৬ জন নাবিকই বাংলাদেশি নাগরিক। বর্তমানে তারা ফুকেটের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।

পরবর্তীতে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এমভি সিলয়েড আর্ক সম্পূর্ণভাবে ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার সময় জাহাজটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে যায় এবং দুই শতাধিক কন্টেইনার সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

থাইল্যান্ডের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার অভিযান শেষে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে যৌথভাবে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে থাই নৌবাহিনী, ফুকেট দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক পুলিশ, সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ দপ্তর। পাশাপাশি সাগরে ছড়িয়ে পড়া কন্টেইনার উদ্ধার ও তেল অপসারণের কাজও চলমান রয়েছে।

জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিলয়েড শিপিং লাইনস–এর মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশের নাফ মেরিন সার্ভিসেস–এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিল আলভি লাইনস বাংলাদেশ।

জেএমআরসিসি বাংলাদেশ জানিয়েছে, থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেএমআরসিসির সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, নাবিকদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এজেন্ট, নাবিকদের পরিবার এবং বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Link: New Age | Ctg-bound container ship sinks off Phuket; 16 Bangladeshi crew members rescued

COMPILED BY
A.K.M Jamal Uddin

28th Batch, Marine Academy Bangladesh.

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

Recent Posts

[Not a valid template]

Related Articles

BMMOA Leads a Major Breakthrough in Expanding Employment Opportunities for Bangladeshi Seafarers

The Bangladesh Merchant Marine Officers’ Association (BMMOA) has taken a bold and...

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলা: MT Kairos জাহাজের বাংলাদেশি নাবিকদের অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা

কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ড্রোন হামলার শিকার জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার MT Kairos এ...

মেরিনারদের জয় হিমালয়ে: এভারেস্ট বেইস ক্যাম্পে বাংলাদেশের আট সাহসী মেরিনার

সমুদ্র থেকে পাহাড়—যেখানে সাহস, ঐক্য আর অধ্যবসায় মিলে যায় এক বিন্দুতে! আমাদের...

‘Technological Brilliance of Marine Engineering’ – Book by Sajid Hussain (15E)

Technological Brilliance of Marine Engineering – A global voyage into the future...